Sunday, 27 November 2016

ফজরের সালাতের জন্য জেগে উঠার কিছু কার্যকরী কৌশল

আমরা যারা নিয়মিত সালাত আদায় করার চেষ্টা করি, আমাদের সবগুলো সালাত ঠিক থাকলেও ‘ফজরের সালাত’ নিয়ে কিছুটা সমস্যায় পড়তে হয়। অনেকেই অনেক চেষ্টা করেও পারি না ভোরবেলা ঘুম থেকে উঠতে। কীভাবে করা যায় এ সমস্যার সমাধান? আমি শুধু দু’ একদিনের কথা বলছি না, বলছি প্রতিদিনকার কথা। আসুন জেনে নেই এ ব্যাপারে কিছু কার্যকরী কৌশল।

প্রিয় ভাই ও বোনেরা, আমরা যখন প্রতিদিন সূরা আল-ফাতিহা তিলাওয়াত করি, দিনে কমপক্ষে ১৭ বার, আমরা এই আয়াতটিও তিলাওয়াত করিঃ
“আমরা একমাত্র তোমারি ইবাদত করি এবং শুধুমাত্র তোমারি সাহায্য প্রার্থনা করি।” [সূরা আল-ফাতিহাঃ ০৫]
আমরা কি সত্যিই আল্লাহর ইবাদত করতে চাই? “অবশ্যই!” তাহলে আল্লাহর সাহায্যও চাই? “হুম!” আবার ফজরের সালাতের জন্যও জেগে উঠতে চাই? “জ্বী, ভাই!” কিন্তু তারপরও আমরা পারি না কেন? কারণ, আমাদের চাওয়ায় আন্তরিকতার অভাব।
আপনার কি কখনও ঘুমাতে যাওয়ার মুহূর্তে এমন অনুভূতি হয়েছে যে, আপনি অবশ্যই ফজরের সালাতের জন্য উঠবেন কিংবা আগে থেকেই আপনি জানতেন সেদিন বেশি ঘুমাবেন? নিচের দৃশ্যপট দুটি কল্পনা করার চেষ্টা করুন। আমি মনে করি, আমরা প্রায় সকলেই এই ধরনের ঘটনার সম্মুখীন হয়েছি।

একজন ঈমানদার দা‘ঈর বর্জিত গুণাবলি পর্ব ৩

৩. অন্তরে শত্রুতা

অন্তরে শত্রুতার পরিচয় ও হুকুম

বোগজ (بغض) শব্দটি আরবী। যার আভিধানিক অর্থ ঘৃণা,শত্রুতা, অবজ্ঞা, অপছন্দ ইত্যাদি। কারো সাথে অন্তরে শত্রুতাভাব পোষণ করাকে বোগজ বলা হয়ে থাকে।

বোগজের হুকুম

শরীয়াতের বৈধ হুকুম ব্যতীত কোন মানুষের সাথে শত্রুতা রাখা হারাম। কিন্তু শরীয়াত বিরোধী লোকদের সাথে এবং যারা শরীয়াতের মাসআলা গোপনা বা পরিবর্তন করে সমাজকে ভ্রষ্টতার দিকে নিয়ে যাচ্ছে তাদের সাথে শত্রুতা পোষণ করা ওয়াজিব।

অন্তরে অন্তরে  শত্রুতার কারণ ও আলামতসমূহ

নিজের বা ধর্মের ক্ষতি দর্শনে বোগজ পয়দা হয়ে থাকে। উল্লেখ্য যে, ধর্মের ক্ষতি দর্শনে যে শত্রুতা পয়দা হয় তা হারাম নয়। বরং প্রশংসনীয়। আর নিজের ক্ষতি দর্শনে অন্তরে যে শত্রুতা পয়দা হয় তা দোষণীয়।

একজন ঈমানদার দা‘ঈর বর্জিত গুণাবলি – পর্ব ২ – হিংসা

২. হিংসা

হিংসা করা কবিরা গুনাহ। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ্ তা‘আলা মহাগ্রন্থ আল-কুর’আনে ঘোষণা করেন :
وَمِنْ شَرِّ حَاسِدٍ إِذَا حَسَدَ.
“হিংসুক যখন হিংসা করে, তখন তার ক্ষতি হতে আশ্রয় প্রার্থনা কর।”২৬ 
এ প্রসেঙ্গ হাদীসের এক বর্ণনায় এসেছে,
عن أبى هريرة أن النبى صلى الله عليه وسلم قال : إياكم والحسد فإن الحسد يأكل الحسنات كما تأكل النار الحطب.
“রাসূল সা. বলেছেন : তোমরা হিংসা হতে বিরত থাক। কেননা হিংসা মানুষের সৎকর্মগুলোকে খেয়ে ফেলে যেমনিভাবে আগুন কাঠকে খেয়ে ফেলে।”২৭
হিংসার পরিচয়
হিংসার আরবী প্রতিশব্দ হলো হাসাদ (حسد)। যার আভিধানিক অর্থ হিংসা, ঈর্ষা, পরশ্রীকাতরতা ইত্যাদি।
পরিভাষায় বলা হয় যে, কারো উন্নতি বা ভাল অবস্থা দেখে তা অসহ্য হওয়া এবং মনে মনে এই কামনা করা যে, তাঁর এ ভাল অবস্থা না থাকুক।